Planted 33,405 Trees....Mission to plant 1 Lac Trees

Tuesday, January 30, 2018

Think twice before you print something!



It takes 3 tons of wood to produce 1 ton of copy paper.

Production of 1 ton of copy paper produces 19,075 gallons of waste water

122ml of water for 1 sheet of A4 size paper.

Think twice before you print something! Don't forget that the planet where we live is not made only for humans. Stop the timber companies cutting down thousands of trees, just because your company is used to work with paper forms.





References:

1. Going Green Today
2. Kids Go Green
3. World Resources Institute Earthtrends data
4. Intergovernmental Panel on Climate Change, Assessment Report 2007
5. Lovins, Hunter L., Lovins, Amory & Hawken, Paul ‘Natural Capitalism.’ Little Brown & Co., 2008. Quoting Liedtke C., Material Intensity of Paper and Board Production in Western Europe. Fresenius Environmental Bulletin, August 1993.
6. Taevs, Debra. Recycling’s Pushed ‘Reduce, Reuse’ Out of Equation. Portland Metro Sustainable Industries Journal, June 2005. OECD Environmental Outlook
7. Guardian
8. WWF Living Forests Report
9. State of the World’s Forests, 2012.
10. Environmental Paper Network (2007)
11. Environmental Paper Network (2011)

Tuesday, January 16, 2018

যশোর রোড: উন্নয়নের মানে কি করাতকল?

 কন্যার নানির একদিন ইচ্ছা হলো, বাড়ির সামনের ছোট চত্বরটার উন্নয়ন করবেন। তো হুকুম হলো, বুড়ো ডুমুরগাছটা কাটো। সবুজ ও খয়েরি মার্বেলের মতো ডুমুরে উঠানটা ভরে থাকে, পরিষ্কার করায় ঝামেলা। মেয়ের মা মৃদু আপত্তি করায় ধমক খেয়ে ফিরে এসেছেন, মায়ের ছোট ভাই যে মামা, সে-ও গাছটার পক্ষে ওকালতি করে ধরা। উজানিয়ার নানি জাঁদরেল মহিলা; তাঁর সঙ্গে তর্ক করা আর পাথরে মাথা ঠোকা সমান।
কিন্তু পাঁচ বছরের মেয়েটি অতশত বোঝে না। ডুমুরগাছটা ওর প্রিয়। বেঁটেখাটো গাছটায় ওঠানামা তার প্রিয় খেলা। গাছ কাটার খবর শুনে সে সোজা নানির সামনে হাজির।
তো সে গিয়ে নানিকে বলে, ‘আনু, তুমি নাকি ডুমুরগাছ কাটতে বলছ?’
নানির টিভির দিকে মনোযোগ। সেদিকে তাকিয়েই বললেন, ‘হ, কাটা লাগবে।’
: কেন কাটা লাগবে?
: বুড়া হয়ে গেইছে, কাইটে ফেলতে হবে।
নাতনি ঝামটি দিয়ে উত্তর দেয়, ‘তুমিও তো বুড়া হয়ে গেছ, তোমারেও কি কাটা লাগবে?’
কথা শুনে নানি লাজওয়াব।
ডুমুরগাছটা সে যাত্রায় রক্ষা পেল। বয়স হয়ে গেলেই অথবা অবলা প্রাণ হলেই তাকে কাটা যায় না; এটা শিশুরাই বোঝে শুধু। কারণ তাদের স্বার্থবোধ কম।


দুই.
যশোর রোডের উন্নয়ন হবে। দুই লেন থেকে চার লেন হবে। এ জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে দুপাশের গাছগুলো কাটতে হবে। গাছগুলো কালের সাক্ষী। শতাব্দীরও বেশি বছর ধরে তারা যুদ্ধ, মহামারি, দেশভাগ, ঝড় ও মানুষের দস্যুতা সহ্য করে টিকে আছে। রাস্তাটি সম্রাট শের শাহের আমলে বানানো গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের সঙ্গে মিশেছে। মানুষের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ দেশান্তরের অন্যতম পথ ছিল এটি। মুক্তিযুদ্ধের কোটি শরণার্থীর অনেকেই এই পথে দেশান্তরি হয়েছিল। অনেকের মৃত্যুও হয়েছিল সেই দুঃসহ যাত্রায়। তাদের কবর ও দাহও সম্ভবত এসব গাছের নিচে ও আশপাশেই হয়েছিল। আবার এসব গাছের নিচেই প্রসবশয্যা নিয়েছিলেন অনেক মা।
স্বাধীনতার পর এ পথেই আবার তারা ফিরেও এসেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সেই মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডি ও এক্সোডাস অভিভূত করেছিল মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গকে। অন্নহারা আশ্রয়হারা ‘দুইটি শিশু দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষছায়/নীরব চোখে আমায় শুধু দেখেই যায়’—লিখেছিলেন তিনি। কত কালজয়ী ঘটনার সাক্ষী এসব গাছ। উন্নয়নঅলারা কি কালের সাক্ষীকে ভয় পান?
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও তো ৪৭ বছরে পা দিল। বুড়ো গাছের মতো তাকেও কি উন্নয়নের ঝকমকিতে কেটেকুটে নতুন বানাবেন তাঁরা? একটি-দুটি নয়, ২ হাজার ৩০০ গাছের মামলা। আর গাছ কি কেবলই গাছ? যশোরের সাবেক জমিদার কালি পোদ্দার তাঁর মায়ের গঙ্গাযাত্রাকে ছায়াঘেরা করতে তিন শতাধিক মেঘ শিরীষগাছ লাগিয়েছিলেন। সেই গাছগুলো প্রায় পৌনে দুই শ বছরের সাক্ষী।
অথচ সহজেই গাছগুলোকে অক্ষত রেখে দুপাশে মহাসড়ক তৈরি হতে পারে। পশ্চিম বাংলায়ও তো যশোর রোড গেছে। সীমান্তের পেট্রাপোল থেকে বনগাঁ পর্যন্ত অনেক জায়গায় সেভাবেই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে (ছবিতে দেখুন)। এই সড়কটি ভারত-বাংলাদেশ সড়ক ট্রানজিটের অংশ। তাই এর সম্প্রসারণ করার প্রকল্প সরকারের একটা বাধ্যবাধকতা। তারই অংশ হিসেবে গত বছর ভারতীয় অংশের গাছ কাটা শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলার জেরে গাছ কাটা বন্ধ হয়। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে গাছ না কাটারই সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
২০১৭ সালের ২১ জুলাই প্রকাশিত প্রথম আলোর খবর বলছে, ‘কোনো গাছ না কেটে পুনর্নির্মাণ করা হবে যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়ক। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগকে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী মহাসড়কটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর আগে মহাসড়কটির দুই পাশের বিভিন্ন প্রজাতির ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
সওজ বিভাগ খুলনা জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন তখন বলেছিলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয় ১৩ জুলাই গাছগুলো রেখে মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী ডিপিপি সংশোধনের কাজ চলছে। গাছ না কেটেই মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হবে।’
তাহলে ৬ জানুয়ারি উল্টো সিদ্ধান্ত কীভাবে নিল যশোর জেলা প্রশাসন? বৈঠকটির নামও মশকরামূলক। বৈঠকের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক যথাযথ মানের ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পার্শ্বে গাছসমূহ অপসারণের বিষয়ে’। সভায় উপস্থিত প্রশাসক, প্রকৌশলী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ সবাই ‘জনস্বার্থে গাছ কাটা’ বিষয়ে একমত হন। কাষ্ঠব্যবসায়ী বৃক্ষ দেখলে প্রাণ ভাবে না, প্রকৃতি দেখে না, দেখে শুধু কাঠ। কাঠ মানে টাকা, টাকা মানে উন্নয়ন। প্রাণ মানে কী, তা কি তাঁরা জানেন? কদিন আগেই অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলতে বাধ্য হয়েছেন, প্রকৃতিবিরোধী উন্নয়ন করে আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানিনিষ্কাশন–ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছি। সঙ্গে এটাও বলা দরকার, এক আশ্চর্য শ্যামল বনভূমিময় দেশকে আমরা করাতকল বানিয়ে ছাড়ছি। উন্নয়ন মানে কি করাতকল? উন্নয়ন মানে কি পরশুরামের কুঠার?
এটাই এখন চলছে বাংলাদেশে। যাবতীয় গণবিরোধী কার্যকলাপের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনস্বার্থ’। নদী-বিল-হাওর-বন ধ্বংস করাকে বলা হচ্ছে উন্নয়ন। সুন্দরবনের বুক ঘেঁষে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোকে বলা হচ্ছে উন্নয়ন। পাহাড় কাটা, বন কাটাও উন্নয়ন। আমরা বলছি না কোথাও হাত দেওয়া যাবে না। আমরা বলছি উত্তম বিকল্পের কথা। বেশি লাভের পথের বদলে আমরা বেশি খরচে বেশি ক্ষতির রাস্তা কেন নিচ্ছি? পদ্মা সেতুর বিকল্প নেই, কিন্তু যশোর রোডের গাছগুলো কাটার বিকল্প আছে। দুর্নীতি ও ভুলের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৭ গুণ পর্যন্ত খরচ করায় অসুবিধা হয় না, কিন্তু গাছগুলোকে মাঝখানে রেখে দুপাশে সড়ক বানাতে কেন অসুবিধা!
যশোর রোড দেশের সুন্দরতম সড়ক-নিসর্গের একটি। কড়া রোদের দিনে এই সড়কে ঘন মেঘের মতো ছায়া জমে। ঝুম বৃষ্টির দিনে এর তলায় কোনো পাতা কুড়ানো কিশোরী কিংবা রাখাল কিশোরের আশ্রয় নেওয়ার দৃশ্য শ্রেষ্ঠতম চিত্রকলা হয়ে যায়। বিকেলের সোনালি আলোয় বৃক্ষচূড়ায় সোনালি গম্বুজের ঐশী আভা কারও মনে অলৌকিক অনুভূতির জন্ম দিতে পারে। শীতের কুয়াশা ঘিরে এলে মনে হয় যেন কোনো শুভ্র সুড়ঙ্গ দিয়ে স্বর্গের দিকে চলেছি। পৃথিবীর কোনো ওয়ান্ডারল্যান্ড বা বিনোদনপুরী এমন সুন্দর ফিরিয়ে দিতে পারবে?
ফারুক ওয়াসিফ: লেখক ও সাংবাদিক।
faruk.wasif@prothom-alo.info
Source: Prothom-alo

যশোর রোডের আদিপ্রাণ বাঁচাও!


গাছখেকোদের এবার নজর পড়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো মহাশিরীষ শোভিত ঐতিহাসিক যশোর রোডের গাছের ওপর। দেশের আর কোথাও এমন দীর্ঘ ছায়ানিবিড় শিরীষসারি অবশিষ্ট নেই। বনখেকোরা কীভাবে এ দেশে বন সাবাড় করেছে, সে ইতিহাস এ দেশের সবার জানা। প্রকৃতি বিনাশে অতি উৎসাহীরা উন্নয়নের মহাসড়কে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে এবার যশোর-বেনাপোল সড়কের শেষ গাছগুলো গিলতে চায়। সে জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে তারা। প্রকল্প অনুমোদনের কাজ শেষ। মহারথীরা একযোগে তাতে সম্মতিও জানিয়েছেন। দেশে নেতৃত্ব দেওয়ার দায় যাঁদের, তাঁরা জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করেন না; তাঁদের আসল উপদেষ্টা অসৎ কর্মচারীরা। বাংলাদেশ আলো করে আছেন এমন মহাক্ষমতাধর কর্তারা।

তাঁরা এমন এক প্রকল্প বানিয়েছেন, যা বাস্তবায়নে নাকি গাছ নিধনের কোনো বিকল্প নেই। সে কথা জানতে পেরে নিসর্গী ও প্রকৃতিবাদী লেখক বিপ্রদাস বড়ুয়া যথার্থ মন্তব্য করেছেন, যিনি গাছ বাঁচিয়ে রাস্তা বানানোর রাস্তা খুঁজে পান না, তিনি আবার কেমন ইঞ্জিনিয়ার? একেবারে দেশের মানুষের প্রাণের কথাটি বলেছেন তিনি। জাপানে একটি গাছ রক্ষার জন্য তারা কত-কী না করে! প্রতিটি বৃক্ষ যে একেকটি মহাপ্রাণ! এ কথার অর্থ যিনি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ, তাঁর মুখেই কেবল শোভা পায়, গাছ না কেটে যশোর-বেনাপোল রাস্তা চার লেন করা অসম্ভব।

আমরা চার লেন নয়, যশোর-বেনাপোল রোডকে দেখতে চাই ছয় লেন হিসেবে। কেননা, এটি এশিয়া মহাদেশীয় মহাসড়কের বাংলাদেশে অংশের প্রবেশদ্বার। আর সে পরিমাণ জমিও এ সড়কের দুপাশে আছে। সরকারের জমি। দরকার শুধু তা কাজে লাগানো।
যশোর-বেনাপোল সড়কটির ঐতিহাসিক অবদান প্রভূত। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন কালীপদ পোদ্দার নামের যশোরের এক জমিদার। এই রাস্তা ব্যবহার শান্তিময় করার উদ্দেশ্যে তিনি শত শত দ্রুতবর্ধনশীল, ছায়াদানকারী মহাশিরীষ বা রেইন ট্রি লাগান রাস্তার দুপাশে। রাস্তাটি যশোর থেকে কলকাতা পর্যন্ত গেছে। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে হরিদাসপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত এখনো তার পরিচিতি যশোর রোড নামেই। আমরা অবশ্য সে নাম ঘুচিয়ে দিয়েছি বহু আগেই। সেটা করেছি আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা এবং জ্ঞানের অভাব থেকে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক অপচিন্তা আর এই রাস্তা থেকে কালীপদ পোদ্দারের নাম-নিশানা মুছে ফেলার হীন চক্রান্ত। তবু গত শতকের শেষ পর্যন্ত যশোরের মানুষের কাছে এ রাস্তা কালীবাবুর রাস্তা বলেই পরিচিত ছিল। আর তখন পর্যন্ত ছত্রাকৃতি নির্মিত ক্যানোপি মুগ্ধ করত দর্শনার্থী কিংবা পথচারীদের। বহুদূর থেকে এই রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করত মানুষ। নবীন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে যেমন কালীপদ পোদ্দারের নাম, তেমনি তার সরকারি নাম যশোর রোডও।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একশ্রেণির মানুষ সবকিছু লোপাট করা শুরু করে। সে লোপাটের প্রথম বলি রাস্তার দুপাশের গাছপালা। গাছ কাটার মহোৎসব হয় এরশাদবিরোধী লাগাতার হরতালের সুযোগে। বিশাল বিশাল বৃক্ষ কর্তন ও লোপাটের এমন সুযোগ আর কখনো আসেনি। বিশ্বাস না হলে যশোর-বেনাপোল, যশোর-কুষ্টিয়া, যশোর-খুলনা কালিগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা বা ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ইত্যাদি মহাসড়কগুলো ভালো করে দেখে নিতে পারেন। এই লোপাটে শরিক রাজনীতিক, আমলা, সড়ক ও বন বিভাগ আর পুলিশ বাহাদুরেরা। এবারও এই দঙ্গলই এক হয়েছে; তবে গায়ে উন্নয়নের নামাবলি।
যশোর রোড আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসের অপরিহার্য অংশ। স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরু থেকেই এই রোড ধরে ভারতীয় তো বটেই, বিশ্বের নানান দেশের, এমনকি বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও এই পথে এসে স্বাধীনতাসংগ্রামের খবর সংগ্রহ করতেন। কলকাতার সঙ্গে সবচেয়ে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম এই যশোর রোড। এই রাস্তা ধরে হাজার হাজার গৃহহারা মানুষ পাড়ি দেয় ভারতে। এই রাস্তা ধরেই বিদেশি রাজনীতিকেরা এসেছেন বাংলাদেশের লাখ লাখÿউদ্বাস্তুর অবর্ণনীয় দুঃখের ভাগীদার হতে। এই রাস্তা নিয়েই অ্যালেন গিন্সবার্গ রচনা করেন ভুবনজয়ী, হৃদয়স্পর্শী ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতা। সেটিই নোবেলজয়ী গায়ক বব ডিলানের কণ্ঠে বিখ্যাত কনসার্ট হয়ে সারা আমেরিকায় বাংলাদেশের প‌ক্ষেÿজনমত গঠনে সহায়তা করে। এই যশোর রোড ধরেই প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য, সংসদ সদস্য, শত শত মুক্তিযোদ্ধা, দেশ-বিদেশের শত শত সাংবাদিক এসে ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মুক্ত জেলা শহর যশোরে জনসভা করেন। সে সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল যশোর রোডের গায়ে যশোর টাউন হল ময়দানে। এমন একটি ঐতিহাসিক সড়কের গুরুত্ব অনুধাবনে যারা ব্যর্থ, তাদের জন্য সত্যিই করুণা হয়।

আমরা জানি এবং দাবি করি, যশোর-বেনাপোল সড়ককে চার লেন কেন ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি জমিও রাস্তার দুপাশেই রয়েছে। এই শতকের গোড়ার দিকে যশোর-বেনাপোল অংশে রাস্তার দুপাশ থেকে জবরদখলকারীদের উৎখাত করা হয়েছিল। শুধু ঝিকরগাছা বাজারে কপোতা‌ক্ষের এপার-ওপার মিলে এক কিলোমিটার মতো রাস্তার দুপাশ দখলমুক্ত করা যায়নি। তবে ঝিকরগাছা ও নোয়াপাড়ায় বিকল্প, অর্থাৎ ডাইভারশন রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘকালযাবৎ ফাইলবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

সুতরাং যশোর-বেনাপোল রাস্তার মূল রাস্তার সব গাছ অক্ষত রেখে দুপাশ দিয়ে আরও দুটি দুই লেনের রাস্তা নির্মাণ সম্ভব। পেট্রাপোল বা হরিদাসপুর থেকে ভারতীয় অংশে এভাবেই মাঝখানে গাছ রেখে তারা চার লেনের রাস্তা বানিয়েছে। এর একটি ব্যবহার করা হবে ভারী যান চলাচলের জন্য, অন্যটি ছোট ও শ্লথগতির যান চলাচলের জন্য। শ্লথগতির যান চলাচলের লেনটি নির্মাণ করতে হবে অপেক্ষাকৃত নিচু করে যাতে এসব যান মূল সড়ক বা হাইওয়েতে উঠতে না পারে। এমন রাস্তা পাবনা, সিরাজগঞ্জে নির্মাণ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এসব কথা আমাদের জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্টজনদের অজানা নয়।
আমরা আশা করব, জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্টদের বোধোদয় হবে এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ করে এখানে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। আর তেমন পরিকল্পনা প্রণয়নে যারা ব্যর্থ, তাদের উচিত নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়া।

আমিরুল আলম খান: লেখক। সাবেক চেয়ারম্যান, যশোর শিক্ষা বোর্ড
amirulkhan7@gmail.com

Source: Prothom-alo

Sunday, January 14, 2018

New Exclusive & Active Member


 Good News for Tree for Mankind.

Nibir Hossain Sajib joined Tree for Mankind as an Exclusive Member. 
He gifted us 435 Trees for our Next Tree Festival.


Salma Akther Rupa joined Tree for Mankind as an Active Member by gifting us 100 Trees.
 

 







Our Team   Join Us 

 

Thursday, January 4, 2018

সোহান ও জ্যোতি কে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা



গতকাল (৩রা জানুয়ারী ২০১৮) সোহান ও জ্যোতির একটি উপহার আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। তাদের শখের অল্প অল্প করে জমানো টাকা Tree for Mankind এর ফান্ড এ জমা দিয়েছে আমাদের পরবর্তী গাছ উৎসবের জন্য। মাহমুদুল হাসান  সোহান ও রোকেয়া জ্যোতি আমাদের Member হিসেবে Tree for Mankind এর সাথে যুক্ত ছিলেন একদম শুরু থেকেই। গতকালের এই উপহার দিয়ে তাঁরা এখন আমাদের Active Member  

সোহান ও জ্যোতির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ Tree for Mankind এর পক্ষ থেকে।

শুধু তাই নয় সোহান ও জ্যোতি আমাদের আরেকটি প্রজেক্ট  One Taka Fund (যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সৎ দরিদ্র মানুষদের বিনা সুদে স্বল্প ব্যবসায়িক পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করা )  যুক্ত হয়েছেন।

Wednesday, January 3, 2018

New Active Member


Mahmudul Hasan (Sohan) & Rokeya Joti upgraded as Active Member from existing Member.



New Member of Tree for Mankind


Md. Aftabuzzaman Khokon joined Tree for Mankind Team as a Member.

He is our First Member in 2018

He gifted us more than the number of Trees of his age.











Best Wishes & Congratulations for Md. Aftabuzzaman Khokon.

Tuesday, January 2, 2018

বউভাতে উপহার গাছের চারা



বউভাতে গিয়ে চমৎকৃত হয়েছেন অতিথিরা। সাধারণত বিয়ের পর বউভাতের আয়োজনে নবদম্পতিকে বিভিন্ন উপহার দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পাশাপাশি নবদম্পতির তরফ থেকে ফিরতি উপহারের চলও আছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এক নবদম্পতি অতিথিদের ফিরতি উপহার হিসেবে গাছের চারা দিয়েছেন।

বর-কনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার সিলেট নগরের কুয়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা শারমিন ফেরদৌসির সঙ্গে বিয়ে হয় দক্ষিণ সুরমা এলাকার কাদিপুরের বাসিন্দা মাসুদুর রহমান শাওনের। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত রোববার বউভাতের আয়োজনে অন্যান্য অতিথির পাশপাশি সিলেটের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’-এর কর্মীদেরও দাওয়াত দেন তাঁরা। এতে ওই সংগঠনের কর্মীরা বর-কনেকে ফলদ, বনজ ও ঔষধি ৫০০ গাছের চারা উপহার দেন। পরে ওই পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীদের সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজনে আসা অতিথিদের গাছগুলো ফিরতি উপহার হিসেবে তুলে দেন বর-কনে।

গত রোববার রাত সাড়ে আটটায় দক্ষিণ সুরমার ময়ূরকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে বউভাতে আসা অতিথিরা খাওয়া শেষে একে একে নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। এ সময় নবদম্পতি অতিথিদের হাতে গাছের চারা উপহার হিসেবে তুলে দেন। কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেল, ১৫-২০ জন মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁরা দাঁড়িয়ে থেকে পছন্দের গাছের চারা বেছে নিচ্ছিলেন। এ সময় বর মাসুদুর রহমানকে অতিথিদের সঙ্গে গাছ নিয়েই কথা বলতে দেখা গেল।

বউভাতে আসা ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী কাজী মনোয়ার উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এমন উপহার পেয়ে আমি খুশি। জীবনে অনেক উপহার পেয়েছি, কিন্তু আজকের উপহারটি সব থেকে আলাদা।’ মানুষ নিজেদের ব্যবহারের জন্য বৃক্ষ নিধন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহরে এখন গাছ নেই। মানুষ নিজেরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। তাই বিয়েসহ বিভিন্ন আয়োজনে অন্য উপহারের বদলে গাছের চারা উপহার দেওয়ার রীতি চালু করলে প্রকৃতি ও মানুষ উপকৃত হবে।’

বউভাতে আসা সিলেটের ওসমানীনগরের বাসিন্দা মকবুল হোসেন জানান, বউভাতে ফিরতি উপহার হিসেবে খেজুর ও মালটাগাছের চারা পেয়েছেন তিনি। উপহার হিসেবে গাছ পেয়ে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পর নবদম্পতিকে ভুলে যাবেন অনেকে। কিন্তু আমি গাছগুলো দেখে তাদের কথা মনে রাখব।’ গাছে প্রথম ফল এলে আজকের নবদম্পতিকে উপহার পাঠাবেন বলেও জানান তিনি।

বউভাতে আসা বড়দের পাশপাশি ছোটদেরও গাছের চারা নিতে ব্যস্ত হতে দেখা গেছে। দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আসিফ বাবা-মায়ের সঙ্গে বিয়ের আমন্ত্রণে এসেছিল। একটি অর্জুনগাছ ও কাঁঠালগাছের চারা হাতে পেয়ে সে জানাল, গাছগুলো সে স্কুলের খালি অংশে লাগাবে।

সিলেটের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক মেহেদী হাসান জনি বললেন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কাদিপুরের বাসিন্দা মাসুদুর রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে পরিচিত। সে সুবাদে বউভাতে তাঁদের সংগঠনের কর্মীদের দাওয়াত দেন তিনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে নবদম্পতিকে বিয়ের উপহার হিসেবে তাঁরা ৫০০ গাছের চারা উপহার দেন।


Source : Prothom-alo