Planted 39,850 Trees....Mission to plant 1 Lac Trees

Thursday, July 19, 2018

এই বছরের প্রথম গাছ উৎসব




গত ১৪ই জুলাই ২০১৮ আমরা গিয়েছিলাম এ বছরের প্রথম গাছ উৎসব উদযাপন করতে নারায়ণগঞ্জ জেলার এনায়েত নগর ইউনিয়ন এর হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে । স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩৫০০ কিন্তু আমরা ১৯০০ গাছের চারা নিয়ে গিয়েছিলাম উপহার হিসেবে। সেদিন আমরা ১৪ রকমের ফলদ, ঔষধি ও কিছু বনজ গাছ দিয়েছি (অর্জুন, আমলকী, হরতকি, বেল, পেয়ারা, কদবেল, বড়ই, লেবু, জলপাই, বকুল,এরিকা পাম, কাঠ বাদাম, মেহগনি ও রেইন ট্রি )।




আমাদের একটিভ মেম্বার মোঃ ইমরান হোসেন এর সার্বিক সহযোগিতায় আমরা এক সপ্তাহ আগেই শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মনির হোসেন স্যারকে জানিয়ে রেখেছিলাম আমাদের গাছ উৎসবের কথা। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা নারায়ণগঞ্জ বন বিভাগ থেকে গাছ সংগ্রহ করার জন্য ঐদিন সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই পৌঁছে যাই পঞ্চবটীর সামাজিক বন বিভাগের নার্সারিতে। এখানেও আমরা জনাব রবিউল সাহেবের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি এবং উনি আমাদের উদ্দেশ্য কে খুবই প্রশংসা করলেন। উনি একটা সুন্দর কথা বলেছেন “গাছের tangible benefit এর চেয়েও intangible benefits অনেক অনেক বেশী ”।



Tuesday, June 26, 2018

বিয়ের যৌতুক ১০০১টি ফলের চারা

বিয়ের যৌতুক হিসেবে বরের হাতে তুলে দেওয়া হযেছে ১০০১টি ফলের চারা। এমন অভিনব ঘটনা ঘটেছে ওড়িশা রাজ্যে কেন্দাপাড়ায়। অবশ্য পেশায় শিক্ষক সরোজকান্ত বিসওয়াল যৌতুকের প্রবল বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তার বিয়েতে পাত্রী পক্ষের কাছে ১০০১টি ফলের চারা যৌতুক হিসেবে দাবি করেছিলেন। পাত্রী পক্ষ সেই দাবি মেনে নিয়ে বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। সেইমত লরীতে করে বরের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন ফলের চারা। এমনকি বিয়েতে যারা এসেছিলেন আমন্ত্রিত হয়ে তারাও এনেছিলেন গাছের চারা।


সম্প্রতি বিয়ে করেছেন সরোজকান্ত। গাছের চারা উপহার পেয়ে সে বেজায় খুশি। ছোটবেলা থেকে সরোজকান্ত প্রকৃতিকে ভাসবাসেন। সরোজকান্তের স্ত্রী রশ্মিরেখা পাইতালা-ও পেশায় এক জন শিক্ষিকা। বিয়ের আগেই হবু বধূকে দিয়ে শপথ করিয়ে নেয়া হয়েছিল যে,  বিয়েতে কোনও শব্দবাজি ও ব্যান্ড পার্টি চলবে না। সরোজকান্ত বলেছেন, তিনি এক জন প্রকৃতিপ্রেমী। শব্দবাজিতে পরিবেশ দূষণ হয়। পরিবেশ দূষণ রুখতে লড়াই করছেন তিনি।  তাই চাননি বিয়েতে শব্দবাজি পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করতে। পরিবর্তে, চেয়েছিলেন শান্ত পরিবেশে গাছের চারা বিনিময়ের মাধ্যমেই বিয়ে সম্পন্ন করতে। তার সেই ইচ্ছে পূরণ হওয়ায় তিনি খুশি। অন্যদিকে এমন একজনকে নিজেদের পরিবারের মধ্যে পেয়ে রশ্মিরেখা ও তার পরিবারও বেজায় খুশি। 

বিসওয়াল জানিয়েছেন, চিরকালই তার স্বপ্ন ছিল বিয়েতে সব আয়োজন যাতে পরিবেশবান্ধব হয়। তাছাড়া নিজে ‘গাছ তি পাই তিয়ে’ সংগঠনের সদস্য হয়ে তিনি অন্য কোনও কিছু যৌতুকে নেওয়ার কথা ভাবতেও পারেননি। বৌ-ভাতের দিনও তিনি গাছের চারা বিতরণ করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়নি কোনও প্লাস্টিক বা পলিথিনের জিনিস।

source

Sunday, June 17, 2018

New Exclusive Member

It is a Great News for Tree for Mankind team is that we have another Exclusive Member.

ABM Golam Eahia Sunny gifted us 600 Trees for our next Tree Festival.



Tuesday, June 5, 2018

World Environment Day 2018

#BeatPlasticPollution

World Environment Day (WED) occurs on the 5th of June every year, and is the United Nation's principal vehicle for encouraging awareness and action for the protection of our environment. 


The Theme Each World Environment Day is organized around a theme that focuses attention on a particularly pressing environmental concern. The theme for 2018 is beating plastic pollution.

The Host Every World Environment Day has a different global host country, where the official celebrations take place. The focus on the host country helps highlight the environmental challenges it faces, and supports the effort to address them. This year's host is India. 

First held in 1974, it has been a flagship campaign for raising awareness on emerging environmental issues from marine pollution, human overpopulation, and global warming, to sustainable consumption and wildlife crime. 

Monday, June 4, 2018

পরিচর্যার অভাব মরে যাচ্ছে সংসদ ভবনের ফিশটেইল পামগাছগুলো


সংসদ ভবনের সামনের দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সৌন্দর্যবর্ধনে ফুটপাতের কিনার দিয়ে লাগানো সারিবদ্ধ ফিশটেইল পামগাছগুলো একসময় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করত। এর অনেক গাছ বিভিন্ন সময় মরে গেছে। এখন আছে ১৩৮টি। এর মধ্যেও ৮টি গাছ মরে গেছে এবং কয়েকটির পাতা শুকিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপযুক্ত পরিচর্যার অভাব আর বয়সের কারণে এমন হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ফুটপাত বরাবর লাগানো ফিশটেইল পামগাছের আটটি মরে গেছে। এ ছাড়া বেশ কিছু গাছের অধিকাংশ পাতা শুকিয়ে গেছে। যে গাছগুলো বেঁচে আছে, সেগুলোর অবস্থা শোচনীয়। গাছগুলোর মাথায় বটগাছ কিংবা ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ জন্মেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, যেন পামগাছে বটগাছের পাতা গজিয়েছে। গাছগুলোর যে পরিচর্যা হয় না, এ থেকে তা স্পষ্ট।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আরবরিকালচার বিভাগের একজন উদ্যানবিদ প্রথম আলোকে জানান, এ গাছগুলো আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দেখত। এখন উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ উভয়ে দেখে থাকে। দায়িত্ব ভাগ হওয়ার পর সড়কের পাশের গাছগুলোর দেখভালের দায়িত্ব পড়েছে ডিএনসিসির। তাদেরই পরিচর্যা করার কথা। তবে এই ফিশটেইল পামগাছগুলোর মৃত্যুর আরেকটি কারণ বয়স হয়ে যাওয়া। এগুলো লাগানো হয়েছিল গত শতকের আশির দশকে। এ ধরনের গাছ ২০-২৫ বছর বেঁচে থাকে।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, পামের মধ্যে কিছু জাত আছে। একবার ফুল দেওয়ার পরে মারা যায় আর কিছু একাধিকবার ফুল দিতে পারে। ফিশটেইল জাতের পামগাছের ক্ষেত্রে ফুল হওয়ার পরে সাধারণত মারা যায়। সে ক্ষেত্রে ফুল ফোটার আগেই পুষ্পমঞ্জরি কেটে দিতে হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব গাছের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। পরিচর্যা অভাব ও পরজীবীর আক্রমণে এসব গাছের মৃত্যু ঘটে।

Source : Prothomalo


Thursday, May 31, 2018

গাছ কেনার জন্য ‘অক্সিজেন ব্যাংক’


২০টি গাছ দিয়ে শুরু হয়েছিল বাগান। এখন সেখানে দুই শর বেশি গাছ। এর মধ্যে ফলের গাছই রয়েছে অনেক। আমের মৌসুম হওয়ায় গাছগুলোয় আম ঝুলতে দেখা গেছে। আটটি আমগাছে ঝুলছে ৩৭টি আম। এর বাইরে হরেক রকমের ফুলের গাছ তো রয়েছে।
রাজধানী ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের (আজিমপুর শাখা) স্কুলের ছাদের ওপর গড়ে উঠেছে এ বাগান। শিক্ষার্থীদের জমানো টিফিনের টাকা থেকে বেড়েছে গাছের সংখ্যা। গাছের পরিচর্যাও চলে তাদের টাকায়।

এ চিত্র শুধু ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নয়, রাজধানীর এমন ২৭টি স্কুলে ছাদবাগান গড়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের যত্ন-ভালোবাসায়।


উদ্যোক্তারা বলছেন, সবুজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি, গাছের প্রতি মমতা তৈরি আর পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে—এমন বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজধানীর স্কুলগুলোতে স্থানসংকটের কারণে ছাদেই গড়ে তোলা হচ্ছে এসব বাগান। বাগান গড়ার কাজে যৌথভাবে সহায়তা করছে পোশাক প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ড সেইলর ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশন।


উদ্যোক্তারা জানান, প্রথম অবস্থায় স্কুলগুলোকে ২০টি করে গাছ দেওয়া হয়। সুদৃশ্য ড্রামে গাছ লাগায় শিক্ষার্থীরা। এমনকি ড্রামটিকে সুন্দরভাবে রং দিয়ে সাজিয়ে তোলেও শিক্ষার্থীরা। যে রং করে ও গাছ লাগায়, তার নাম লেখা থাকে ড্রামটিতে। স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় একটি কমিটি। ওই কমিটি পরবর্তী সময়ে গাছের পরিচর্যা বা নতুন গাছ কেনার কাজটি করে। গাছ কেনার জন্য ‘অক্সিজেন ব্যাংক’ নামে একটি তহবিল করা হয়। সেই তহবিলে টিফিনের টাকা থেকে বাঁচিয়ে অর্থ জমা করে শিক্ষার্থীরা।

গ্রিন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সংগঠনটি ‘সেইলর গ্রিন সেভার্স প্ল্যান্ট ফর প্ল্যানেট’ শিরোনামে বিনা মূল্যে ভিন্নধর্মী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৫ সালে ঢাকার আজিমপুরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছাদবাগান করার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এখন পর্যন্ত রাজধানীর ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে বাগান করা হয়েছে। গত ১৩ বছরে ওই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আর এই কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ও সাড়ে নয় শ শিক্ষক। ‘অক্সিজেন ব্যাংক’-এর একটি অংশ হচ্ছে বৃক্ষরোপণ, যেটাকে সংগঠনটি ‘প্ল্যান্ট ফর প্ল্যানেট’ বলে।

এ ব্যাপারে গ্রিন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি বলেন, বৃক্ষরোপণ রাজধানীর ২৭টি স্কুলে চললেও সারা দেশের ৩৮০টি স্কুলে ‘অক্সিজেন ব্যাংক’ কার্যক্রম চালু রয়েছে। গাছ লাগানোর জন্য সেইলর বিনা মূল্যে ড্রাম সরবরাহ করে থাকে। ঢাকার বাইরের স্কুলগুলোয় ভিন্নভাবে বাগান করে দেওয়া হয়। সেসব স্কুলে জায়গা বিস্তৃত থাকায় স্কুল ভবনের পাশেই বাগান করা হয়। ঢাকার বাইরের স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সেভ দ্য চিলড্রেন সহায়তা করছে।  তিনি বলেন, প্রতি মাসে ছাদবাগান করে দেওয়া স্কুলের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২০ সালের মধ্যে ১০০টি স্কুলে ছাদবাগান করে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সংগঠনের।


সর্বশেষ ১৯ মে রাজধানীর কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাদে বাগান করে সংগঠনটি। এ ব্যাপারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘উদ্যোগটিকে খুবই ভালো মনে হওয়ায় সংগঠনটির আহ্বানে আমরা সাড়া দিই। তারা ২৫টি গাছ দিয়েছে ছাদবাগানের জন্য। গাছগুলো লাগানোর আগে শিক্ষার্থীরা রং-তুলি দিয়ে ড্রামে রং করে নেয়। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। একটি সেমিনারের মাধ্যমে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানোর উপকারিতা ও পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়।’
ইয়াহিয়া সোহেল বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা গাছ লাগাতাম। যত্ন করতাম। এখনকার শিশুদের গাছের সঙ্গে পরিচিতি কম। গাছ লাগানোর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে তারা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।’
একই মন্তব্য করলেন আজিমপুরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাতি শাখার ইংরেজির শিক্ষক ও স্কুলের গ্রিন ক্লাবের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রশাসনের উচ্চ আসনে বসবে, তাদের হাত দিয়ে পরিবেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত আসা সম্ভব নয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকায় গাছগুলো কেনা হয় এবং গাছের পরিচর্যার সঙ্গে তারা যুক্ত থাকে বলে গাছগুলোর প্রতি তাদের ভালোবাসা জন্মে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গাছ থেকে ফল পাড়ার আনন্দ শহরের এই প্রজন্ম জানে না। অনেক সময় ছাদবাগানে তাদের ফল ছিঁড়ে ফেলাকে প্রশ্রয় দিই। তারা খুবই আনন্দ পায় এতে।’ তিনি জানান, ২০টি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করা হয় ছাদে। এখন গাছের সংখ্যা দুই শতাধিক। আম, আমড়া, পেয়ারা, লেবুর পাশাপাশি নয়নতারা, জবা, গোলাপ, গাঁদাসহ নানা ফল-ফুলের গাছ রয়েছে।
স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা প্রথম আলোকে বলে, তারা ৪০০ শিক্ষার্থী কমিটিতে রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে গ্রুপ করে তারা গাছের পরিচর্যা করে। গত বছর আগস্ট মাসেও প্রচুর গাছ কেনা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। এর বাইরে তারা নিজেরাও গাছ কিনেছে।
আয়েশা জানায়, তাদের স্কুল ছাদের বাগান সম্পর্কে জেনে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল তা পরিদর্শন করেছে।
স্কুলের দশম শ্রেণির আরেক ছাত্রী তাসনুবা বিনতে ফরাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজেদের টাকায় গাছগুলো কেনা হয় বলে খুব ভালো লাগে। টিফিনের টাকা থেকে মাঝেমধ্যে ১০ টাকা বাঁচিয়ে গাছ কেনার জন্য আমরা রাখি। বছরে দুই-তিনবার গাছ কেনা হয় সেই টাকায়। মালি আংকেলদের সঙ্গে সবাই মিলে গাছের পোকামাকড় পরিষ্কার করতে ও গাছে পানি দিতেও ভালো লাগে।’
গ্রিন সের্ভাস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি বলেন, বাগান করার সময় শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়, পরিবেশকে বসবাসের যোগ্য করে রাখতে হলে সবুজ লাগে। কারও অক্সিজেন প্রয়োজন হলে তাকে হাসপাতাল থেকে টাকা দিয়ে কিনতে হয়। প্রকৃতি মানুষকে বিনা মূল্যে অক্সিজেন দেয়। প্রকৃতির অক্সিজেন পেতে হলে তাই নিজেদেরই তার উদ্যোগ নিতে হবে। গাছ লাগাতে হবে। টিফিনের টাকা থেকে এক টাকা করে অক্সিজেন ব্যাংকের নামে জমা রাখলে তা দিয়ে গাছ কেনা যাবে, অক্সিজেন পাওয়া যাবে।


আহসান রনি বলেন, ‘আমরা এ উদ্যোগে সফল হয়েছি। বাগান করার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা গাছগুলোর প্রতি মমতা বোধ করে। সংগঠনের প্ল্যান্টডক্টর নামের অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থেকে অনেক শিক্ষার্থী গাছের কোনো সমস্যা হলে তা জেনে ব্যবস্থা নিতে পারে।’
উৎসাহ জোগাতে বেশিসংখ্যক গাছ লাগিয়েছে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কৃত করেছে সংগঠনটি। এবার সেরা তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিয়াম মডেল স্কুল ও আলী হোসেন গার্লস হাইস্কুল।

source: prothomalo

Monday, April 30, 2018

শ্যামলী নিসর্গ : খুঁজেও পাবে না তারে


প্রকুতি নিয়ে লেখালেখি করি বলে সবাই আমার কাছে একটি কথাই জানতে চান, আপনার শৈশবে দেখা প্রকৃতির সঙ্গে এখনকার বাংলাদেশের চেহারার ফারাকটা কেমন লাগে আপনার? আমি তখন হারিয়ে যাই সত্যিই আমার শৈশবে। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামে।
১৯২৯ সালে আমার জন্ম। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে। সেখানেই কেটেছে আমার ছেলেবেলা। সেই ত্রিশ-চল্লিশের দশকে বাংলাদেশের মানুষ অতটা যান্ত্রিক হয়ে যায়নি। তাই সবুজ বনানী আর জলাভূমির সঙ্গেই ছিল মানুষের সখ্য।

আমাদের গ্রামের কাছেই ছোট ছোট পাহাড়। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নিকড়ি নদী। দু’কুল ছাপিয়ে যেত সবসময়। এতই ছিল তার ঐশ্বর্য। ওই নদীতে তখন ঢাকা থেকেও নৌকায় লোকজন আর মালামাল আসত। আহা, কোথায় হারিয়ে গেছে আমার নিকড়ি! গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অসংখ্য হারিয়ে যাওয়া নদীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে ওর নাম। আমাদের গ্রাম থেকে চার কিলোমিটার দূরে পাথারিয়া পাহাড় যেখানে আছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। মাঝে মাঝে যাই ওখানে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ওটাও। আমার ছেলেবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওই নদী, ওই পাহাড়, ওই সবুজ বনানী গ্রামীণ কিশোরের ব্যস্ত দিন যেখানে কাটত।

সেই দেখার সঙ্গে এখনকার দেখাকে তো মেলাতে পারি না। আমরা নিজেরাই ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো নিজেদের প্রিয় পৃথিবীটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছি একটু একটু করে নয়, খুব দ্রুতই। মানুষের লোভের কাছে প্রতিনিয়তই হার মানছে বসুন্ধরা। আর বাংলাদেশে তো প্রকৃতি আর পরিবেশকে ধ্বংস করার হার আরও ভয়াবহ।

এখন আমরা পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে নানা কথা বলছি। এ নিয়ে কি আরও আগেই ভাবা উচিত ছিল না? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যত উন্নতি হয়েছে তত আমরা প্রকৃতিকে নষ্ট করেছি। আমরা তো প্রকৃতিরই সন্তান। তাই প্রকৃতির সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া খুবই দরকার ছিল। আসলে আমাদের অর্থনীতির নিয়মকানুনগুলোই এমন যে আমরা কোথাও থামতে পারি না। তাই প্রকৃতিও এখন নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মতো উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। প্রত্যাঘাত শুরু করেছে।

বাংলাদেশে আমরা ১৬ কোটি লোক। আমরা সবসময়ই বলি, জনসংখ্যা কোনও সমস্যা নয়। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রুপান্তর করতে হবে। ঠিক আছে, আমরা না হয় শিক্ষা দিয়ে বা প্রযুক্তির সাহায্যে এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে সম্পদ বানানোর চেষ্টায় লেগে গেলাম। তখন কিন্তু আমরা মানুষের কথাই ভাবব, প্রকৃতির কথা নয়। প্রকৃতিকে নানাভাবে শুষে নিয়ে মানুষের কল্যাণ করব। প্রকৃতিকেই তো মানুষের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতে হয়। আর তাতেই ধ্বংস হয় পরিবেশ। এভাবে বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে নদী, মাটি, পাহাড়, বন, জলাভ’মি, প্রাণীজগত নানাভাবে বিপর্যস্ত হয়। উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক মডেলগুলো অনুসরণ করতে গিয়ে আমরাও একইভাবে পরিবেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী নানা কর্মসূচি নিচ্ছি। গাছপালা উজাড় করে কারখানা হচ্ছে, নদী ভরাট করে মানুষের বাসস্থান হচ্ছে, সমুদ্রের তটভূমি পর্যন্ত দখল করছে মানুষ! ওদিকে ভূগর্ভ থেকে পানি তুলতে তুলতে পানির স্তরও নেমে গেছে অনেক নিচে।

প্রকৃতির ওপর এসব অত্যাচারের ফলে সেও যে রুদ্র হয়ে উঠছে এর প্রমাণ আমরা নানাভাবে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের আবহাওয়া ক্রমেই উষ্ণ হয়ে উঠছে। জলাবদ্ধতা বেড়ে যাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধ ইত্যাদির ফলে আমাদের এ অঞ্চল শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে। তবু যেন এ নিয়ে আমাদের কোনও ভাবনা নেই। আরও দশ বছর বা বিশ বছর পর আমরা কোথাও থাকব কীভাবে খাব, আমাদের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান এই দেশ করতে পারবে কিনা এসব নিয়ে কেউ ভাবছে বলে মনে হয় না। ভারতের সঙ্গে একসময় তালপট্টি নামের একটি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে আমাদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরে তলিয়ে গেছে। আগামী কয়েক বছরে আমাদের ব্যাপক অংশ চলে যাবে সমুদ্রের নিচে। তখন তিন কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হবে। কে নেবে এই লোকগুলোকে? বিশ্বের কোনও দেশ কি নেবে?
মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা ৬ কোটি আর থাইল্যান্ডের ৫ কোটি মাত্র। দেশ দুটো আমাদের চেয়ে আয়তনে অনেক বড়। ওরাও প্রকৃতিকে অনেক নষ্ট করেছে। বনজঙ্গল কেটে উজাড় করেছে। তবে জনসংখ্যা কম বলে ক্ষতিটা ওরা সামাল দিতে পেরেছে।

আমাদের এই যে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি, এটা আমাদেরই উদ্ভাবিত অনন্য একটি ব্যবস্থা! একসময় বন বিভাগের কাজ ছিল বনে উন্নতমানের গাছ লাগানো। সেগুন, মেহগনি ইত্যাদি গাছ লাগাত তারা। কিন্তু সরকার আর পেরে উঠছিল না। তাই পাবলিককে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হলো। এরপর থেকে প্রচুর গাছ কিন্তু লাগানো হচ্ছে। সমস্যা হলো, মোটিভেশনটা এমনভাবে হয়েছে যে লোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্থকরী গাছ লাগাচ্ছে। ফলের গাছ, ফুলের গাছ লাগানোই হয় না। দশ বা বিশ বছর পর ওসব অর্থকরী গাছ কিন্তু কেটে ফেলা হবে। তাহলে?
আসলে এটাই কেউ বুঝতে চায় না যে বনাঞ্চলে বৈচিত্র্য দরকার হয়। একটি নির্দিষ্ট বনাঞ্চলে উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করেই ওই অঞ্চলের প্রাণীজগত আবর্তিত হয়। উদ্ভিদের আশ্রয়েই নানা রকম পাখি, পোকামাকড় ও প্রাণী নিজেদের টিকিয়ে রাখে। যখন এই বৈচিত্র্য থাকে না, শুধু নির্দিষ্ট কয়েক প্রজাতির গাছ লাগানো হয়, তখন সেখানে প্রাণীজগতের অন্নের সংস্থান হয় না। জীবনের শৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়ে। শস্যখেতে পোকামাকড়ের সংখ্যা বেড়ে যায়। আর যেসব পাখি এই পোকাগুলো খেয়ে বাঁচে এবং এভাবে ফসল রক্ষা করে সেগুলো না থাকায় ফসল উৎপাদন কমে যায়। তাতে আবার মানুষের খাদ্যশস্যের জোগান কমে। তাই এভাবে বাস্তুসংস্থান নষ্ট করে প্রকৃতিকে রক্ষা করা যাবে না।
এ যুগে পর্যটন একটি বিরাট ব্যবসা। যে দেশে জনসংখ্যা কম তারা পরিবেশটাকে মোটামুটি ঠিক রেখে এ ব্যবসা চালাতে পারে। তাতেও অবশ্য রক্ষা নেই। মানুষের স্বভাব খুব খারাপ। যেখানেই যায় পরিবেশ নষ্ট করে। আমি উন্নত দেশেও দেখেছি, পরিবেশবাদীরা জাল দিয়ে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ক্যান, প্যাকেট ইত্যাদি আবর্জনা কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আর আমাদের মতো বিরাট জনসংখ্যার দেশে এ ধরনের পর্যটন ব্যবসা রীতিমতো পরিবেশ-বিপর্যয়কারী। কুয়াকাটা ডুবে যাওয়ার খুবই আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধপূর্ণ তালপট্টি ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনের কাছের কয়েকটি দ্বীপ ডুবে গেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে বাড়ছে এটা তার প্রমাণ। তাহলে এখানে যে পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘এত টাকা দিয়ে একটি অ্যপার্টমেন্ট কিনুন ওখানে, একশ বছরের জন্য মালিকানা ইত্যাদি ইত্যাদি– এ সব দেখার যেন কেউ নেই। কক্সবাজারে সমুদ্রের বেলাভূমি দখল করে পর্যন্ত স্থাপনা হচ্ছে। এসব নিয়ে লাগাতার বিজ্ঞাপন চলছে পত্রপত্রিকায়। ইদানিং একটু নড়েচড়ে বসছেন সবাই। আমার প্রশ্ন হল, এতদিন কি ওরা ঘুমিয়ে ছিলেন? বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু নদীগুলোর মতো নদী দূষিত হতে হতে শেষ হয়ে গেছে। এতদিন পরে আমাদের যেন হুঁশ হচ্ছে।

আমাদের সেই পাথারিয়া পাহাড়ের ওপরে একটা বাঁশবন ছিল। সেই বনটা আর নেই। এখন ওখানে আবার সামাজিক বনায়ন হচ্ছে। উচিত ছিল বনের পুনর্জন্ম দেওয়া। সামাজিক বনায়ন নয়, প্রকৃতির হাতেই প্রকৃতিকে বিনির্মাণের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। তা না করে মানুষকে বন্দোবস্ত দিয়ে দিল। কোথায় প্রাকৃতিক বন আর কোথায় সামাজিক বন!

আমার এসব দেখলে খুব বিভ্রান্তিকর মনে হয় যে আমাদের জ্ঞান-বুদ্ধি মনে হয় তলানিতে পৌঁছে গেছে। আসলে এসবই হলো জ্ঞানের অভাব, দূরদর্শিতার অভাব, বাস্তব বিচার-বিশ্লেষণের অভাব। পৃধিবীর অনেক দেশেই অনেক কিছু হয়। তবে আমাদের এখানে সবকিছুই খুব নগ্নভাবে হয়।
আগেই বলেছি, নিকড়ি নদীর চারপাশে কেটেছে আমার ছেলেবেলা। এখান থেকে মাটির হাঁড়িপাতিল, ফলফলাদি, আরও কত কিছু নৌকায় করে নিয়ে যাওয়া হত দুর-দূরান্তে। খুব বেশি চওড়া নয় নদীটা। মাত্র দশ মিটারের মতো। কিন্তু পানি ছিল অনেক। এখন নিকড়ি একটা মরা নদী। হেঁটেই পার হওয়া যায়। নদীতে পলি পড়ে পড়ে গভীরতা গেছে কমে। তাই মাঝে মাঝে দু’কূল প্লাবিত করে সে।
আমরা কেন ভুলে যাই যে, গাছপালা চল্লিশ ভাগ বৃষ্টির পানি ধরে রাখে। গাছের নিচে যে সব পাতা পড়ে থাকে সেগুলো পচে এমন একটা ভাণ্ডার তৈরি হয় যেখানে অনেক পানি জমা থাকতে পারে। তাই বৃষ্টি হলেই বন্যা হয় না। গাছ যে পানিটুকু ধরে রাখে তা অনেক দিনে চুইয়ে চুইয়ে নদীতে গিয়ে পড়ে। শীতের দিনেও গাছপালায় আটকে থাকা পানি দিয়ে প্রকৃতিতে পানির ভারসাম্য থাকে। ওদিকে নদীর গভীরতা বজায় থাকায় সেখানে মাছ থাকে প্রচুর। এভাবেই প্রকৃতির শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
এখন গাছপালা কেটে ফেলতে থাকলে কী হবে? স্বভাবতই বৃষ্টির পানি আর আটকে থাকার জায়গা পাবে না। তখন তা সরাসরি মাটিতে পড়ে মাটির পলি-বালি ধুয়ে নদীতে নিয়ে ফেলবে। নদীর পলিস্তর উঁচু হবে। গভীরতা কমবে। আর তখনই দ্রুত বন্যা, জলাবদ্ধতা ইত্যাদিও বাড়বে। একই কারণে শীতের সময়ও পানির সমস্যা দেখা দেবে। মাছও কমবে। এ সব তো খুব সহজ হিসাব।

প্রকৃতি তো তৈরি হয়েছে লাখ লাখ বছরে। পৃথিবীতে মানুষের জন্মের আগেই গাছপালা, বন, পাহাড়, নদী, সমুদ্র সব তৈরি হয়েছে। প্রকৃতির এই বিরাট সৃষ্টিযজ্ঞের জন্য সময় লেগেছে লাখো-কোটি বছর। তাই আজ যা ধ্বংস করছি আমরা তা কি দশ, বিশ কি পঞ্চাশ বছরেও পুনঃনির্মাণ করতে পারব? সম্ভব নয়।

আমার বাড়ি থেকে চার মাইল দূরে হাকালুকি হাওর। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওর। দৈর্ঘ্য-প্রস্থে চল্লিশ মাইল। হাকালুকির মতো হাওর-বাওর পর্যন্ত ভরাট হয়ে যাচ্ছে এখন। তাই আমাদের এলাকায় এখন বৃষ্টি হলেই নদীতে পানি উপচে পড়ে। এমন আগে কখনওই ছিল না। এই পানি আর নামেও না। ফলে এলাকাটা একটা পকেটের মতো হয়ে গেছে। আমাদের এই অঞ্চলগুলো ছিল শুষ্ক অঞ্চল। এগুলোও এখন ভাটি অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ওজোন স্তর বেড়ে যাওয়া, ক্ষতিকর সিএফসি গ্যাসগুলোর নিষ্ক্রমণ– এসব কারণে গোটা পৃথিবীই সমস্যায় আক্রান্ত। আমাদের সমস্যা আরও বেশি। বিপুল জনসংখ্যার দেশ এটি। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ। পাশাপাশি ইকোলজিক্যালি খুব স্পর্শকাতর আমাদের মাটি। এটি একটি বিরাট ব-দ্বীপ এবং পুরোটাই সমতলভূমি। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে অনেকগুলো বড় নদী। সমুদ্রের উচ্চতা বাড়লে আমরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হব। হতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা তেমন বাড়ল না যতটা বলাবলি হচ্ছে। সমুদ্রের নিচে কী হচ্ছে তা ঠিকভাবে বলা মুশকিল। কারণ এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আগে ঘটেনি। আমরা এখন যা আশঙ্কা করছি তার সবই অনুমান-নির্ভর।
তবে খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে, গোটা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর স্বাভাবিক প্রভাব আমাদের ওপর পড়ছে। ওদিকে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন কমছে। বাড়ছে তেলশস্যের উৎপাদন। একসময় হয়তো টাকা দিয়েও খাদ্য পাবে না মানুষ। এত লোককে খাইয়ে-পরিয়ে কি বাঁচিয়ে রাখতে পারব আমরা?

দ্বিজেন শর্মা: প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও প্রকৃতিবিশারদ।

১৯২৯ সালের ২৯ মে সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে চন্দ্রকাণ্ড শর্মা ও মগ্নময়ী দেবীর ঘরে জন্ম নেন দ্বিজেন শর্মা।


নিভৃতিপ্রিয়, প্রচারবিমুখ উদ্ভিদবিদ, নিসর্গী, বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাবিদ দ্বিজেন শর্মা সেই প্রজন্মের মানুষ যাঁরা এই উপমহাদেশের বৈপ্লবিক সব পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। কিন্তু এসব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেই তিনি তাঁর প্রকৃতিপ্রেমকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা থাকলেও তাঁর মধ্যে ছিল শিল্পবোধ আর দেখার চোখ, সুন্দরকে অন্বেষণের আকাক্ষা। মানবজাতির জন্য তাঁর মনে সব সময় এক অনিঃশেষ আশাবাদ ও শুভকামনা কাজ করে। লেখালেখির মধ্যেই তাঁর সৃষ্টিশীলতা ফুটে ওঠে বার বার।


সেপ্টেম্বর ২০১৭  দ্বিজেন শর্মা পরলোক গমন করেন